Contact: 8951233, +880 1911 485949
Golden Bangladesh, House#6, Road-1, Sector-4, Uttara, Dhaka-1230

নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার গোড়ার কথা

নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার গোড়ার কথা

বিংশ শতাব্দীর অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে জন্ম নেয়া সত্যাশ্রয়ী বলিষ্ট এক সাহসী পুরুষ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, প্রবল পরাক্রমশালী পুরুষের একেবারে পাশে ‘নারী’ কে নিয়ে এসে যে বাণীতে বেঁধে পুরুষের সমান অধিকার বন্টন করে গেছেন, তার সেই চির অবিস্মরণীয় স্বার্থক বাণীতে বিশ্বাস ও একাত্বতা ঘোষণা করে শুরু করছি আজকের আমার এই নারী বিষয়ক নিবন্ধটি।

এ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

 নারী! আঃ হাঃ রে! এই নিরীহ নিগৃহীত নির্যাতিত জাতটাকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলেই চোখ পড়ে যায় অতীত ইতিহাসের দিকে। ইতিহাসের পর্বে পর্বে যে কঠিন কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে, তা পাঠ করতে গেলে বুকে মুচড় লাগে, মর্ম বেদনাটা খুব ভারী ও ব্যতিত হয়ে ওঠে। পৃথিবীর মাটিতে নারী নিপিড়ন ও নৃশংস নির্যাতনের যে গ্লানি আছে, তা বনপুড়া আগুনের মতো ইতিহাসের পাতায় পাতায় দাউ দাউ করে এখনো জ্বলছে। হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের জলের মতো অশ্রুপাতে বুক ভাসিয়েছে। হয়তো বা কোন প্রভাত রবি হীরা ঝরিয়েছে তাঁদের সেই অশ্রুবন্যায়, কিংবা তো গভীর নিশিতের নীলাভ আকাশের নিরব তিথি মুক্তোর মূল্য দিয়ে গেছে। কিন্তু পুরুষ মানব তার কতোটুকু দিয়েছে? কী ভাবে পেরেছে ‘মানুষ-নারী’কে মানুষ নামধারী পুরুষ তার একাধিপত্য বিস্তার করে নিষ্পষিত করতে। কী ভাবে সম্ভব হয়েছে যুগে যুগে জোর করে চিতায় পুড়ানো থেকে শুরু করে নির্যাস নিয়ে নির্যাতিত করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিতে। বড়ই দুঃখের বিষয় গভীর আক্ষেপের সাথেই বলতে হয়, একবিংশ শতাব্দীর অতি সভ্যতার এই সকাল বেলায় এসেও যখন দেখি, নারী নিষ্পেষণের কুসংস্কারাচ্ছন্ন দুর্মর তন্ত্র-মন্ত্র নিয়ে দিবারাত্র ব্যতিব্যস্ত আছে গোটা জনগুষ্টির মোটা এক অংশ। এবং নিঃসন্দেহে এরা মানবতাবাদী নয়; ওরা মূলত যৌনলোভী সুবিধাকুর। ওদেরকে প্রতিহত করার ব্রত এবং পদক্ষেপ হউক আগ্নেগিরি অগ্নোৎপাতের মতো তীর্যক এবং বিনাশী। নারীরা বাসুকির মতো ফণা উঁচিয়ে আসুক ওদের পীড়িত মস্তিষ্কে ছোবল দিতে।

একার পক্ষে সমষ্টির সঙ্গে, বা বলা যায় অপশক্তির সঙ্গে পেরে উঠা খুবই শক্ত এবং কঠিন। তবুও যে বিবেক কাঁদে একটা কিছু করবার জন্যে। তাই মাঝে মাঝে নিপিড়িত অবহেলিত মায়ের এই জাতটাকে নিয়ে কলম ধরি হাতে; তাতে করে কখনো জন্ম নেয়, Ñনারীবাদী ছড়া, কবিতা, ও গল্প, কখনো বা তথ্যভিত্তিক নিবন্ধতে নিমগ্ন হই। যুগ যুগ ধরে পুরুষতান্ত্রিক বা পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারীদের ওপর যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের স্ট্রীম রোলার চালানো হচ্ছে, সেই সম্পর্কিত তথ্য বা ইতিহাস থেকে অনিসন্ধিৎসু এই আমি যে সামান্যটুকু পঠন-পাঠনের মাধ্যমে অর্জন করি, পাঠশেষে পাঠকদেরকে তার অংশীদার করবার জন্যে একটা অস্থির তাগিদ হৃদয়ের গভীর থেকে অনুভব করতে থাকি। আসছে আগামী আসন্ন এই মহিমান্মিত দিনটিকে সামনে রেখে আসুন আমাদের ভারতবর্ষে নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার গোড়ার কথা নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনায় সবাইকে অংশীদার করি।
 
উনবিংশ শতাব্দী ছিলো নারীমুক্তি আন্দোলনের শতাব্দী। এবং এই নারী মুক্তির মধ্য দিয়েই অঙ্কুরোদ্গম ঘঠে ‘নারী স্বাধীনতা’ নামের আন্দোলন। ‘নারী মুক্তি’ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পরে ‘নারী স্বাধীনতা’ নিয়ে স্বল্প পরিসরে হলেও আলাপ করবো। প্রথমে চোখ ফেরাই নারী মুক্তির সূচনা লগ্নের সময়টার দিকে। নারীর যাতনাময় জীবনে কঠোর বন্ধন, কঠিন কষ্টকর নিপিড়ন এবং শৃঙ্খলিত জীবন থেকে নারীরা বন্ধনমুক্ত হবার প্রেরণা বা বলা যায় মুক্তির পথ খুঁজে পায় এই শতাব্দীর মধ্যভাগে এসে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, তখনকার পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষের দ্বারা শৃঙ্খলিত নারীদের মুক্তি আন্দোলন কিন্তু সর্বপ্রথম পুরুষরাই শুরু করেন। উনিশ শতকের এই নারীমুক্তি পথিকৃৎ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। রাজা রামমোহনের মৃত্যুর পর নারীমুক্তি আন্দোলনে যার অবদান সবচেয়ে বেশী তিনি হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সনাতনপন্থী পরিবেশে রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং অজস্র কুসংস্কারযুক্ত হিন্দু সমাজে লালিত হয়েও বিদ্যাসাগর সমকালীন সামাজিক কুপমন্ডুকতা ও ধর্মের নামে ভন্ডামীতে নিজেকে নিবেদিত না করে বরং এসকলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করেছিলেন। এর প্রধান কারণ সমাজকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
 
বিদ্যাসাগরের সময়কার সমাজে হিন্দু বিধবাদের দুর্গতি ছিলো সবচেয়ে দুর্বিষহ ও যন্ত্রণাদায়ক এবং ন্যক্কারজনক। অন্যায় অত্যাচার অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং নিষ্পেষণ নিপীড়ণে জর্জরিত হিন্দুবিধবা নারীদের মুক্তির পথ ছিলো রুদ্ধ। পুরুষদের একাধিক বিয়েতে কোন বাঁধা ছিলো না। তারা ইচ্ছে করলেই একাধিক রমণীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতেন। অনেক সময় দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে স্ত্রীর মর্যাদা তো দেয়া হয়নি, কাজের বঁন্দী-দাসীর মতো আচরণ করা হয়েছে; কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষ হিসাবে মর্যাদা পর্যন্ত দেয়া হয়নি। এমন কি বারাঙ্গনাদের সান্নিধ্য নেয়া তাদের জন্যে বৈধ বা উন্মুক্ত ছিলো। অপর দিকে আট বা দশ বছরের হিন্দু বাল্যবিধবাকে পুনরায় বিয়ে দেয়াটা পর্যন্ত ছিলো সম্পূর্ণ শাস্ত্র বিরুদ্ধ। হায়রে শাস্ত্র! শাস্ত্র নামের সুবিধাবাদী অনিষ্টকারী কু-অস্ত্র থেকে কবে যে আমারদের এ সমাজ পুরোপুরি পরিত্রাণ পাবে কে জানে? কবে যে স্বামীপরমার্থ প্রথাটা চিতায় উঠবে জানি না। জানা যায় তখনকার সময় শাস্ত্র অমান্য করে যদি কেউ বিধবাকে বিয়ে করেছে তো মরেছে; তাকে একঘরি করা হতো, সমাজচ্যুত করা হতো। সমস্ত সমাজের ভেতরে প্রচলিত এই প্রতা বা ব্যবস্থা বিদ্যাসাগরের বিবেক এবং মূল্যবোধকে চরমভাবে আঘাত করে। তিনি বিধবা বিবাহ নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন। এবং এক সময় শাস্ত্র ঘেঁটে শেষ পর্যন্ত তিনি ‘পরাশর সংহিতা’ নামক ধর্ম শাস্ত্রে বিধবা বিবাহের পক্ষে সমর্থন পেয়ে যান। এই গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে. ‘বিবাহিত নারীর স্বামী যদি উন্মাদ হয়, মারা যায়, সন্ন্যাসী হয়, ক্লীবত্ব প্রাপ্ত হয় এবং সমাজচ্যুত হয় তবে স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ শাস্ত্র সম্মত’। সমাজের চোখের সামনে শাস্ত্র স্বীকৃত এধরনের প্রমাণ্য দলিল তুলে ধরে বিদ্যাসাগর প্রমাণ করেন যে, বিধবা বিবাহ শাস্ত্র সম্মত। কিন্তু শত প্রচেষ্টাতে সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারলেন না একচ্ছত্র পুরুষ শাসিত এই সমাজে। পারলেন না বিধবাদের বিবাহ দিয়ে বৈধব্যের দুঃখ-দুর্দশাকে ঘুচাতে। তখনকার সমাজে দেখা গেছে বিধবা বিবাহ প্রচলিত না থাকায় বাল্য বিধবাদের অনেকেই বৈধব্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্যে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন অবৈধ গোপন প্রণয়ে। এমন কি কেউ কেউ সামাজিক কলঙ্ক থেকে মুক্তির লক্ষ্যে আতœহত্যা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ বা যন্ত্রণা আর উপদ্রপ সহ্য করতে না পেরে পথে নেমেছেন, এবং জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বন করেছেন। বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন করেছিলেন মূলত সমাজে উৎকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা থেকে সমাজকে রক্ষা করা এবং সমাজে হিন্দু বিধবাদের যে ঘৃণিত, শৃঙ্খলিত জীবন ছিলো সেই জীবন থেকে তাঁদের মুক্তি দেয়ার জন্যে। আইন প্রয়োগ ছাড়া সম্ভব হবে না ভেবে বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের অক্টোবর মাসে সমাজের শিক্ষিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সহ একটি আবেদন সরকার সমীপে পাঠান। বহু চড়াই-উৎরাই পার হয়ে ১৮৫৬ সালে জুলাই মাসে বিধবা বিবাহ সমর্থনের পক্ষে আইন প্রণীত হয়। এবং এই একই বছর ডিসেম্বর মাসে বিদ্যাসাগর বহু অর্থ ব্যয় করে প্রথম বিধবা বিবাহ দেন। অতঃপর প্রচুর অর্থ ব্যয়ে ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬০ টির মতো বিধবা বিবাহ দেন। তাতে করে বিদ্যাসাগর এক সময় ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
 
উনবিংশ শতাব্দীতে আরো একটি মারাতœক সামাজিক ব্যাধি প্রকট হয়ে দেখা দেয়েছিলো। তা ছিলো, ‘বহু-বিবাহ’ নামক প্রতা। এই প্রতা চালু থাকায় প্রচুর অর্থের বিনিময়ে কুলীন পুরুষরা একাধিক কুলীন কন্যাকে বিয়ে করতেন। সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে কুলীন পিতা-মাতা প্রচুর অর্থ পণ দিয়ে বয়ষ্ক মৃত্যুপথযাত্রী কুলীন পাত্রের কাছে কন্যাকে বিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না। ফলে কুলীন কন্যারা অচিরেই বিধবা হতেন। এই সমস্যাও সমাজ সংস্কারক বিদ্যাসাগরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ব্যাপারে শুধু পত্র-পত্রিকায় তিনি লেখালেখি করে কান্ত দেননি, তিনি বইও লিখেছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও বিদ্যাসাগর দেখলেন যে, আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে। বিদ্যাসাগর তাই ১৮৫৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ‘বহু-বিবাহ নিষিদ্ধ’ এই মর্মে আইন প্রণয়নের জন্যে সরকারের কাছ আবেদন করেন। কিন্তু বহুবিদ জঠিল কারণে এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ সম্ভব হয়নি।

এক সময় যখন বিদ্যাসাগর দেখলেন যে, দীর্ঘকাল থেকে চলে আসা বদ্ধমূল কুসংস্কার গুলোকে নারী নিজেরাই ছাড়ছে না। যদিও কিছু সংখ্যক নারী মুক্তির জন্যে আন্দোলনমুখী হতে চাইতো কিন্তু সামাজিক অনুশাসনের কারণে পেরে ওঠতো না। অর্থাৎ নারী মুক্তি আন্দোলনে নরীরাই অন্তরায় সৃষ্টি করছেন দেখে তিনি নারী শিক্ষার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। এমন কি বহু সাধনার ফলে ১৮৪৯ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগর বেথুন সাহেবের সহযোগীতায় মাত্র ২১ জন ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্টিত করেন ‘বেথুন স্কুল’। শিক্ষা বিস্তারের এ সংগ্রাম থামেনি তাই ১৮৫৭ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী ৭ মাসের মধ্যে তিনি বর্ধমান, হুগলী, মেদিনীপুর ও নদীয়ায় মোট ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এসকল করতে গিয়ে বিদ্যাসাগর বহুবার বহুভাবে বহুধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কিন্তু হাল ছাড়েননি। কারণ বিদ্যাসাগর’র বুকের ভেতর জুড়ে ছিলো মানবতাবোধ এবং নারীদের প্রতি ছিলো সহজাত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আলোকবর্তিকা পাণে ছুটেছেন সারা জীবন এবং সফল স্বার্থক ভাবে গড়ে তুলতে পেরেছেন নারী মুক্তি আন্দোলন।

প্রথমদিকে যে সব মহিলারা শিক্ষা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন: বামা সুন্দরী, দোর্গামোহন দাস’র স্ত্রী ব্রাহ্মময়ী দেবী, নিস্তারিণী, রাজলক্ষèী সেন, রাধারাণী লাহিড়ী, মনোরমা মজুমদার, চন্দ্রমুখী বসু, জ্যোতির্ময়ী গঙ্গোপাধ্যায়, তটিনী দাস, দুর্গাপুরী দেবী এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। এখানে উল্লেখ্য, নবাব ফয়জুন নেসাই প্রথম মুসলমান মহিলা যিনি মেয়েদের জন্যে কুমিল্লায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলেছিলেন। এই স্কুল তাঁর মৃত্যুর অনেক পরে ১৯৩১ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। অপরপক্ষে, রোকেয়া সাখায়াত হোসেন ১৯০৯ যে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন, কয়েক বছর পরই তা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
 
নারী শিক্ষার ভেতর দিয়ে কী ভাবে নারী স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সংগ্রাম শুরু হলো, এখন তার ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। নারী শিক্ষা সম্পর্কে বাঙালি সমাজে যখন থেকে সচেতনতা দেখা দিতে আরম্ভ করে, নারী স্বাধীনতার ধারণাটিও তখন থেকেই কমবেশী তৈরী হতে থাকে। তবে অন্তরের সেই ধারণকৃত প্রত্যাশিত ধারণাকে প্রকাশ করবার মতো কোন শব্দ বাংলা ভাষায় যেমন ছিলো না, তেমনি কোন ভাবেই প্রকাশ করার ক্ষমতাও কোন নারীর ছিলো না। সম্ভবত ১৮৪২ সালে একজন মহিলাই এ শব্দ প্রথম বারের মতো ব্যবহার করেন। তিনি বেনামীতে অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদিত ‘বিদ্যাদর্শন পত্রিকা’য় এক চিঠিতে ‘স্বাধীন মনে’ কলকাতায় আসার কথা লিখেছিলেন। মহিলার ‘স্বাধীনতা’ এই ধারণাকে অক্ষয় দত্ত সমর্থন করতে পারেননি, কিন্তু স্বাধীনতার অস্পষ্ট একটা সজ্ঞা তাঁর মন্তব্য থেকে পাওয়া যায়। তিনি লিখেছিলেন, ‘........ স্ত্রী লোকেরা পুরুষের মতো স্বাধীন হউন, অর্থাৎ সর্ব্বত্র গমন, সকলের সহিত কথোপকথনাদি করুন........।’ অক্ষয়কুমার দত্ত মহিলার স্বাধীনতার ধারণাকে সমর্থন করতে পারেননি, তার কারণ, এতোটুকু স্বাধীনতার জন্যে শিক্ষা সহ যে প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা তাঁর মতে এই মহিলা বা তখনকার সময় কোন মহিলা-ই লাভ করেননি। এর আঠারো বছর পরে বলা যায় কালের দাবী হিসাবেই ১৮৬০ সালে, ‘স্ত্রী স্বাধীনতা’ বা যেটাকে আজ আমরা ‘নারী স্বাধীনতা’ বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এই সেই ‘নারী স্বাধীনতা’ পদ’টির ব্যবহার দেখতে পাই। ১৮৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে অনুষ্টিত বাৎসরিক মাঘোৎসবে; যেখানে প্রায় ৫০ জন রমণী অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে এমনটি কল্পনা পর্যন্ত করা যেতো না।

নারী স্বাধীনতার সূর্যটা কী ভাবে ধীরে ধীরে ভোরের আকাশ সীমা ছাড়িয়ে উঠে আসতে থাকে তার আরো একটি লক্ষণীয় উদাহরণ ইতিহাস আমাদেরকে প্রমাণ করে দেয়। ১৮৬৬ সালের নভেম্বর মাসে, মেরি কার্পেন্টারের সংবর্ধনা-সভায় এখানে বেশ কয়েকজন কমবয়েসী ব্রাহ্ম নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। যদিও অভ্যস্ত না থাকার কারণে অনেক মহিলা মুখ খুলতে পারেননি, তবে পুরুষরা খুব উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। পুরুষদের একজন নারীদের উদ্দেশ্য করে সে দিন সে-সভায় যে বক্তব্য পেশ করেছিলেন তা ছিলো, ‘ভগিনীগণ! আপনাদিগের স্বামীরা যদি আপনাদিগের মঙ্গলের দ্বার উদ্ঘাটন করিয়া দিতে ভীত হয়েন, আপনারা সাহসী হউন, অগ্রসর হউন, তাঁহাদিগের নীচতাকে অতিক্রম করুন এবং আপনাদের যে ঈশ্বরপ্রদত্ত স্বাধীনতা হার তাহা কন্ঠদেশে পুনর্ব্বার পরিধান করুন। ......তোমরা জড়বস্তু নও, পশুও নও যে, স্বামী যাহা বলিবে তাহাই করিবে। ....আমাদিগের ন্যায় তোমাদিগেরও চিন্তা কার্য্য সকল বিষয়ে তুল্য স্বাধীনতা আছে।’

নারী স্বাধীনতার উষালগ্নে অর্থাৎ ১৮৬৩ সালে ব্রাহ্ম-সমাজের একজন উৎসাহী তরুণ উমেশচন্দ্র গুপ্ত মেয়েদের জন্যে ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’ প্রকাশ করেন। এই পত্রিকায় মেয়েদের উন্নতির লক্ষ্যে নানা শিক্ষামূলক রচনা প্রকাশিত হতো। মেয়েদের খবর এবং তাদের লেখা কবিতা, প্রবন্ধ ও চিঠিপত্র প্রকাশিত হতো। প্রগতিশীল পুরুষদের এভাবে সহযোগীতার কারণে মেয়েরা আস্তে আস্তে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে চার দেয়ালের বাইরে আসতে শুরু করেন। নারীদের স্বাধীনতার ব্যাপারে পুরুষদের এই ইতিবাচক মনোভাব প্রথম দিকে শুধু ব্রাহ্মদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে তা ইংরেজি শিক্ষিত পুরুষদের অনুমোদন লাভ করে এবং তাঁরা মহিলাদেরকে অন্তঃপুরের অন্ধ কারাগার থেকে মুক্ত করতে আরম্ভ করেন।

১৮৭৫ সালে কলকাতার মায়াসুন্দরী ‘নারী স্বাধীনতা’র প্রস্থাবটি বামাবোধিনী পত্রিকায় তার এক লেখায় খুবই সংকীর্ণ ভাবে আনেন। তিনি লিখেন, ‘স্ত্রীলোকের কিছু দেখিবার হুকুম নাই। কলিকাতায় গঙ্গার উপর পুল নির্ম্মাণ হইল, লোকে তাহার কত প্রশংসা করিল, কিন্তু আমাদের শুনাই সার হইল, একদিনও চক্ষুকর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করিতে পারিলাম না।’ আঃ হাঃ রে! শুনে বুকে বড়ই কষ্ট হয়। আজকাল তো তালেবাদের স্ত্রী’রাও অন্তত নিঞ্জা-মার্কা বুরকার ফুঁড়ের ভেতর থেকে নব-নির্মিত জিনিস গুলো দেখতে পাচ্ছেন কিন্ত তখনকার সময় তাও সম্ভব ছিলো না। হায়রে নারীর নিয়তি আর তাঁর ললাট লিখা। জানি গৃহকোণে তাঁরা বন্দিনী ছিলেন। আর বন্ধীদশায় না থাকবেন কেন; পুরুষদের কাছে যে বিধাতা বার্তা পাঠিয়ে আদেশ দিয়েছেন, Ñনারীদেরকে ঘরের সেঁতসেঁতে অন্ধকোণে বন্ধি রেখে পূণ্য অর্জন করার জন্যে।
 
আমরা জ্ঞানদান নন্দিনী দেবী’র অবদানের কথা অস্বীকার করতে পারি না। জ্ঞানদান নন্দিনী যেমন অবরোধ ভাঙার আদর্শ স্থাপন করেছিলেন, তেমনি মহিলাদের জন্যে শালীন পোশাক প্রবর্তন করে মেয়েদের বাইরে আসার পথ সুগম করতে সহযোগীতা করেন। ১৮৮০’র দশকে মেয়েদের সমান অধিকার, অথনৈতিক ও সমাজিক ভূমিকা পালনের অধিকার সম্পর্কে সবচেয়ে জোরালো দাবি জানান কৃষ্ণভাবিনী দাস। তিনি স্বামীর সঙ্গে কয়েক বছর বিলেতে ছিলেন এবং তার স্বামীও ছিলেন উদারমনা, আর এটাই তাঁকে সাহায্য করেছিলো স্ত্রী বা নারী স্বাধীনতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে। ১৮৮৫ সালে তাঁর ‘ইংলন্ডে বঙ্গমহিলা’ গ্রন্থ এবং পরের কয়েক বছর ‘ভারতী’তে তাঁর একাধিক প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি স্ত্রী স্বাধীনতা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা প্রকাশ করেন। মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা এবং স্বনির্ভরতা বিস্তারে প্রচুর কাজও করেছিলেন তিনি। এভাবে নিরন্তর কাজ চলতে থাকে নারী স্বাধীনতার ন্যায় সংগত সংগ্রামকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে।

নারী আন্দোলনের প্রদীপ্ত শক্তিধর এক নাম বেগম রোকেয়া। তিনি ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার অন্তর্গত মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামের বিখ্যাত সাবের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বেগম রোকেয়ার মায়ের নাম রাহাতুন্নেসা চৌধুরী এবং বাবা’র নাম জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলি সাবের।

বেগম রোকেয়ার ডাক নাম ছিলো ‘রুকু’। বিয়ের পর তিনি পরিচিত হলেন রোকিয়া সাখাওয়াত হোসেন হিসাবে। রোকেয়ারা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। তাঁর বড় বোনের নাম করিমুন্নেসা এবং ছোট বোন হুমায়রা; দু’ভাই ছিলেন ইব্রাহিম সাবের ও খলিল সাবের। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রোকেয়ার স্থান চতুর্থ। তিনি তাঁর বোন করিমুন্নেসা ও বড় ভাই ইব্রাহিম’র উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় লেখাপড়া শুরু করেন। রোকেয়া’র পরিবারে আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার প্রচলন ছিলো কিন্তু বাংলা এবং ইংরেজি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিলো। সর্বপ্রথম রোকেয়ার দু’ভাই সাবের পরিবারের ঐতিহ্যকে সাহসের সাথে ভেঙ্গে দিয়ে  ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেন। জমিদার হিসাবে রোকেয়ার বাবার বেশ নামডাক ছিলো। কিন্তু শক্তি ক্রমশঃ লোপ পেতে থাকে কেননা, জমিদারির অবস্থা তখন অস্তিমিত সূর্যের মতো প্রায়।
 
অনেক কন্ঠকিত পথ-প্রান্তর অতিক্রম করে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বড় ভাই ও বোন করিমুন্নেসার সাহয্য-সহযোগীতা নিয়ে বেগম রোকেয়া বাংলা এবং ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮ বছর বয়সে খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেন’র সাথে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁর নাম হয় রোকেয়ার সাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়ার দুটি কন্যা সন্তান জন্মের পর পরই মারা যায়। রোকেয়া ২৮ বছর বয়সে তার স্বামীকে হারান অর্থাৎ মাত্র দশ বছর ঘর করার পরই পরই তিনি বৈধব্যের বসন পরেন। মৃত্যুকালে তাঁর স্বামী ভাগলপুরের ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
 
স্বামীর মৃত্যুর ভেতর দিয়েই শুরু তাঁর সংগ্রামমুখর জীবন। পাঁচ মাসের মধ্যে আতœবিশ্বাস আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে মাত্র পাঁচ জন ছাত্রী সংগ্রহ করে, ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্টানটি স্থাপন করতে পেরেছিলেন। কোন সময়? যে সময় মেয়েদের লেখাপড়া একেবারে নিসিদ্ধ ছিলো। সম্পত্তি নিয়ে স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তানের সাথে বিরোধ হওয়াতে ১৯১০ সালের শেষের দিকে ভাগলপুর ছেড়ে কলকাতা চলে যান। ১৯১১ সালের ১৬ মার্চ মাত্র আট জন ছাত্রী নিয়ে কলকাতার এক গলিতে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’এর কাজ শুরু করেন। স্কুল চালু করার সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে যেমন তিনি সাহায্য সহযোগীতা পেয়েছেন, তেমনি পেয়েছেন অসংখ্য অসহ্য লাঞ্ছনা এবং উপহাস।

বেগম রোকেয়া বাস্তবতার ভেতর দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, শুধু শিক্ষা দিলেই নারীরা মুক্ত এবং সচেতন হবেন না। তাঁদের নিজস্ব সামাজিক জীবন গঠন করার প্রয়োজনীয়তাও তীব্রভাবে অনুভব করতে পেরেছিলেন। লব্ধ অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৬ সালে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ (মুসলিম মহিলা সমিতি) নামে এক মহিলা সমিতি প্রতিষ্টা করেন। মহিলা সমিতি প্রতিষ্টার জন্যে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত যখন দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছিলেন তখন তাঁকে নিয়ে সমাজের অগণিত লোকে অবজ্ঞা অবহেলায় হাসি-ঠাট্টা করেছেন।
 
উনবিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকের কথা। সময়ের বিচারে ব্যাপারটি অবশ্যই বিশ্ময়কর তবুও যে সত্য, বাংলার এক রক্ষণশীল মুসলিম সনাতন সংসারে জন্ম নিয়ে এসে বেগম রোকেয়া নামের ক্ষণজন্মা এই মহীয়সী মহিলা যে সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে গেছেন তা আজও বিরল। যার লিখনী শুরু হয় ১৯০৩ সালের দিকে। লিখনীর ভেতর দিয়ে যার আমৃত্য সংগ্রাম আর সাধনা ছিলো ঘুণেধরা প্রতাগত সমাজের কঠিন কর্কশ পুরানো প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্টা করা। বেগম রোকেয়া সারাটি জীবন প্রবল প্রত্যাশা বুকে নিয়ে প্রচন্ড প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন Ñনারীর অধিকার প্রতিষ্টা করে পরিমার্জিত সুশীল সুন্দর প্রশান্তিময় এক সমাজ গঠন করতে। তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৩১১ বঙ্গাব্দে। ‘মতিচূর’ নামক এই গ্রন্থের একাধিক প্রবন্ধে তিনি নারী মুক্তি এবং নারীর সামাজিক অধিকার ও উন্নতির কথা বলে গেছেন। বেগন রোকেয়া বিবাহের পর তাঁর স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন’র কাছেও ইংরেজি লেখা ও পড়া শিখে বিশ্বকে জানার সুযোগ, সাহস ও যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন বলেই নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করবার পক্রিয়া ও কৌশলগত দিক নিয়ে প্রজ্ঞাবান আলোচনা-সমালোচনা করতে তিনি পেরে ছিলেন। রোকেয়া নারীবাদী লেখিকা মেরী করেলি’র রচনা থেকে আরম্ভ করে ইংরেজি অনেক রচনাই পড়েছিলেন যার ফলশ্রুতিতে তাঁর লেখায় যুক্তিবাদ ও মৌলিকতা ছিলো। ১৯০৪ সাল থেকেই প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর নারী স্বাধীনতা বিষয়ক গ্রন্থ সমুহ। তিনি তাঁর লেখার ভেতর নারী শিক্ষাকে যেমন গুরুত্ব দিতেন তেমনি আরো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দিতেন Ñতা ছিলো অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি বলতেন এবং বিশ্বাস করতেন নারীর সত্যিকার মুক্তি আসতে পারে Ñনারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মাধ্যমে। এমন কি মেয়েদের জন্যে তথাকথিত ভদ্র পেশার কথাই কেবল তিনি বলেননি, মেয়েরা জমিতেও কাজ করতে পারেন Ñএ কথাও বলেছিলেন। পুরুষরা যে মেয়েদের বন্দী করে রেখেছেন টাকা, গায়ের জোর এবং ধর্মের নামে, আর মেয়েরা যে একটা নির্যাতিত শ্রেনীর সদস্য Ñএই নারীবাদী ধারণা তিনি সেযুগেই প্রকাশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের বাস্তব পদক্ষেপও তিনি নিয়েছিলেন। নারীদের মুক্তি আর স্বাধীনতার ব্যাপারে যে সকল বলিষ্ট বক্তব্য তিনি প্রকাশ করেছিলেন, এখন পর্যন্ত আর কেউ-ই তাঁর বক্তব্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার ব্যাপারে আরো যাঁরা অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন তাঁদের মধ্যে আছেন, Ñকেশবচন্দ্র সেন, গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার, দুর্গামোহন দাস, শিবনাথ শাস্ত্রী, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ প্রগতিশীল পন্ডিত ব্যক্তিবৃন্দ।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর আকস্মিক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সারা বিশ্ব জোড়ে নারীদের নায্য অধিকার আদায়ের জন্যে যে বা যারা সংগ্রাম ও আন্দোলন করে নারী মুক্তি ও নারী স্বাধীনতার পথকে সুগম-সুদৃঢ় করে গেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে আসন্ন দিনের নবীনারা তাঁদেরই নির্দেশিত পথে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাটি রেখে নিবন্ধটির যবনিকা টানলাম। এবং সাথে সাথে আশা থাকলো আগামী ৯ ই ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে রোকেয়া সাখাওয়াত’র মৃত্যু বার্ষিকী উভয় বাংলায় উদযাপিত হবে।

লেখক : আবদুল হাসিব, অটোয়া থেকে
তথ্যসূত্র : নিউস বাংলা.কম

© 2017 Golden Femina. Developed by Optimo Solution